Friday, March 30, 2018

 
 
 

 সরিষার তেলের নানাবিধ ব্যবহার:


সরিষার তেলের নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। মাছ ভাজা, ভর্তা বা ঝালমুড়ির জন্য সরিষার তেল ছাড়া চিন্তাই করতে পারেন না অনেকে। তবে কেবল খাবার রান্নাতেই নয়, ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে চুলেও সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়।
জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মতে সরিষার তেলের কিছু বিসম্ময়কর গুণের কথা-
১। এই তেল স্বাদের জন্য অনন্য। সরিষা থেকে তেল তৈরি করা হয়। সরিষা সেই শস্য প্রজাতির অংশ যা থেকে ক্যানোলা তেল তৈরি করা হয়।
২। বাংলা, বিহার, ওড়িশা, আসাম এবং নেপালে সরিষার তেলে রান্না ঐতিহ্যের অংশ। কিছু কাশ্মীরি খাবারও তৈরি করা হয় এই তেলে।
৩। ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরিষার তেল দারুণ কাজ করে। এতে আছে ছত্রাক প্রতিরোধী উপাদান। তেলটিকে এই গুণ দিয়েছে অ্যাললি আইসোথিয়োসায়ানেট।
৪। এক টেবিল চামচ সরিষার তেলে রয়েছে ১২৬ ক্যালরি।
৫। এই তেলে ঝাঁঝালো গন্ধ রয়েছে যার কারণে কীট-পতঙ্গ দূরে থাকে। তাই অনেক সময় পিঁপড়া এবং মশা তাড়াতে সরিষার তেল মিশ্রিত তরল স্প্রে করা হয়।
৬। এই তেলে রয়েছে দুটো গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাটি এসিড- ওয়েলিক এসিড এবং লিনোলিক এসিড। এগুলো চুলের জন্য অনেক উপকারী। মাথায় এই তেল ব্যবহার করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়।
৭। একে উষ্ণ তেল হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাই শীতের মৌসুমে এটি বেশ কাজে লাগে।
৮। আয়ুর্বেদে সর্দি ও কাশি দূর করতে সরিষার তেলের ব্যবহার রয়েছে।
৯। দেহের বিষাক্ত উপাদান ঝেড়ে ফেলতে সরিষার তেলের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। এটি খেলে বা ত্বকে লাগালে ঘাম বের হয়। এর মাধ্যমেই দেহের বিষাক্ত উপাদান বের হয়ে যায়।
১০। রিউমাটিজম এবং আরথ্রাইটিসের চিকিৎসায় ওষুধের সঙ্গে সরিষার তেলের ব্যবহার রয়েছে।
১১। দাঁতের যত্নে সরিষার তেলের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে দাঁত মাজতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
১২। বিভিন্ন তেলের উপাদান নিয়ে গবেষণা করে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (অলএমএস) এবং স্যার গঙ্গারনাম হসপিটাল। তাতে বলা হয়, সরিষার তেল কার্ডিওভাসকুলার ডিজিসের ঝুঁকি কমায় ৭০ শতাংশ। এটা অলিভ অয়েলের চেয়ে ভালো। কারণ অলিভ অয়েলে ওমেগা ৬ (এস৬) এবং ওমেগা ৩ (এন৩) ফ্যাটি এসিডের সুষম ভারসাম্য নেই।
১৩। বাড়িতে তৈরি ফেসপ্যাকে সরিষার তেল ব্যবহার করলে তা আরো কার্যকর হয়ে ওঠে।
১৪। তিসির পাউডারের সঙ্গে সরিষার তেলের ব্যবহারে খুশকি দূর হয়।
১৫। অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকার কারণে সরিষার তেল আচার তৈরিতে অনন্য।

No comments:

Post a Comment